
নগর তিলোত্তমা রয়েছে সুবর্ণ নগরের গনিকালয়েও।
মেহেদী
তার হাতেও উঠে। সানাই সেও শুনে তবে সেটা কোন আয়োজনের জন্য নয়। এই ঘরানার
থার্ডক্লাস টাইপের মেকাপ বক্সও থাকে তার পার্সে। অভিনয়ে মন জয় করবার জন্য
নয়, সেটা বিনিময়ের জন্য। দুরন্ত কিশোরীর মতো সে ও শিস মারতে জানে। তফাৎ এই
যা, ‘ঘরনী’ লেবেল আঁটা আর তিলোত্তমারা লেবেল বিহীন। ছিপি না খোলা পর্যন্ত
বোতলের স্বাদ অনুভব করা যায়না। কৌমার্য হাতে নিয়ে উড়নচণ্ডী! অনেকে ছিপি
খোলবার আগেই বিবসন হয়ে যায়। তিলোত্তমাদের তাতে কোন ভ্রুকুটি নেই, নরাধম কে
উত্তম-মাধ্যম দেবার ইচ্ছেটুকু তারা বেঁধে রেখে দিয়েছে মধ্যমায়।
‘ঘরনী’
যদি নক্ষত্রের মতো হাজার ইচ্ছের পাতা মনে পুষে বিভাবসু হয়, বিমুখ গনিকা
তবে বিভাবরী। সে নিজেকে বিরজা ভাবতে পারেনা, কেননা তা হতে নেই।
লক্ষনাক্রান্ত রঙটা যেন শুধু ঘরনীর একার। লৌকিকতায় হয়তো নগর তিলোত্তমা’রা
কখনই সামিল হয়না। তবুও বেঁচে থাকার জন্য তস্কর হয় ক্ষণে ক্ষণে। উনিশ কুঁড়ির
কৌমার্য হরণকারিনীও বলা যায় খানিকটা।
যুগ চলে যায়। গলি বদলায়। রয়ে
যায় এই নগর তিলোত্তমা, যাদেরকে জন্ম দিই আমাদের মতোই কেউ কেউ। যাদেরকে
এড়িয়ে চলি। আমাদের মতোই কিছু পামর! আবার শিস বাজাই তিলোত্তমাদের জন্য।
-নীল; তুমি কচুরীপানা দেখেছো ?
ভরা পানিতে কেমন ভেসে থাকে;
রমণীরা আলতো ছোঁয়ায়
তাকে কাছে টেনে নেয়; তাকে সৌন্দর্যের এক ভাস্কর্য-
মনে করে কেউবা নানা উপমায় সাজায়;
কিন্তু সে ফুল কেউ অন্দর মহলের শোভা বর্ধনে সাজায় না।
ওরা খুব জোড়া বেধে থাকতেই ভালোবাসে;
একা থাকতে চায়না।
-নীল আমি সেই কচুরী পানার মতোই
নিপুন হাতে গড়া জীবন্ত ভাস্কর্য
যার ভেতরে আনন্দ আছে, ব্যাথা আছে,
বিবর্ণ হবার আকাঙ্খা আছে; কিন্তু প্রেম নেই।
যার বুকে ভালোবাসাই নেই তাকে কি ভালোবাসা যায় বলো ?
-নীল আকাশের সীমানা যদি মেপে ফেলা যেত,
তাহলে তাকে অসীম বলার কি’ই বা প্রয়োজন থাকতো বলো।
আমি অথৈ গভীরতা সমান আনন্দ বুকে নিয়ে বসে আছি;
যদি চাও তো নিতে পারো পাহাড় সমান।
-নীল দেয়ালিকার মতো সাদা কাগজ রেখেছি বুকের এই মাঝ খানে
তুমি একে চলো যেমন খুশি তেমন, আমি বাধা দেব না।
হাতের তালুতে রেখে দিয়েছি আঁকা বাকা এক নদী;
সেখানে আমার ভাগ্য দেবতা রোজ লুকোচুরি খেলে।
তোমার পূর্ণ চোখ মেলে দাও এই ভাগ্য রেখার বালুচরে;
পাবে অনন্ত দিগন্ত; তুষারপাত; টানা বারান্দার কথোপকথন;
কিন্তু সেখানে এক বিন্দু প্রেম তুমি পাবে না !!!
অনিলা, তুমি ভাবতেই পারবে না;
যে শহরে তুমি ফেলে যাওয়া দিনগুলোতে নিয়ন আলো দেখতে পাওনি।
সে শহর আজ কেমন সেজে আছে!
সে শহরে আজ শুধু আলোর ঝলকানিই দেখতে পাচ্ছি।
এত্তো আলো এই শহরে এখন, অথচ রোজ মোমবাতি জ্বেলে প্রার্থনা ঘরে যেতাম আমরা।
আমাদের যখন সেই তুলসী তলায় কেত্তন হতো;
দেখতাম তুমি তখন সুর করে কোরআনের বাণী আওরাচ্ছ।
পাশাপাশি আমরা তবুও কি যেন একটা দেয়াল!
বৃষ্টির দিনে মোমের আলো পাশে রেখে ছায়াবাজি খেলতাম।
ঘরে তখন মাঝে মাঝে গ্যাসের বাতি জ্বলত।
তখনও বিদ্যুৎ আসেনি এই শহরে, আমাদের দিনগুলো তখনও যান্ত্রিক হয়ে উঠেনি।
আমরা তখনও বিষাদের ছায়া গায়ে মাখতে শিখিনি।
তখন অবদি আমরা ভাবতাম এক সাথেই আমাদের দিন গুজরান হবে সকলের।
কিন্তু, হয়ে উঠেনি আর আমরা এলোমেলো হয়ে গেছি খুচরা পয়সার মতো।