শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৪
রঙে রাঙানো রঙকাব্য
প্রত্যেকটা মানুষের জীবনেই রঙ আছে। আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে
আছে অসংখ্য রঙের মানুষ। “রঙ হীন” মানুষের জীবন হতে পারেনা। শৈশবে দুধের মতো
সাদা রঙে আমাদের জীবন শুরু হয়। মায়ের চোখের জলের স্বচ্ছ কাঁচ রঙে আমরা
প্রথম মায়া অনুভব করতে শিখি। বাবার মুখের সোনালী হাসিতে প্রথম বুঝতে শিখি
উচ্ছাস!
রঙের হাওয়ায় আমাদের কৈশর শুরু হয়। আমরা
তখন সবুজে অবুঝ হয়ে ফরিঙের মতো উড়ি। সবুজের কাছ থেকে প্রথম দেখি প্রকৃতির
নিজস্ব রঙ আছে। অপরিসীম সৌন্দর্য আমাদের চোখে ধরা দেয় আকাশী রঙা আকাশ হয়ে,
যে রঙের কোন শেষ নেই। দুরন্ত বয়সে আমরা ঘুড়ির মতো উড়ি বনে-বাতাসে-নদীর
ধারে। আমাদের চোখে তখন রঙ-বেরঙ এর মার্বেল বসত করে। অনেক ডোরাকাটা মার্বেল।
লাল-কালোয়
সংমিশ্রণে শুরু হয় আমাদের তারুণ্য। শব্দকথায়, সুরের ভুবনে, ইচ্ছের
প্রজাপ্রতি সবকিছুতেই তখন কল্পনার সব রঙ নিয়ে এসে চোখের সামনে খুলে দেয় আপন
জানালা। আমরা ভাসি আনন্দে-ব্যাথা-সংশয়ে। আমরা বুঝতে পারি সব অনুভূতিরই রঙ
আছে। গোলাপী রঙা আবেগ আমাদের ভাবতে শেখায়, মনখারাপ করতে শেখায়। অযথাই উড়তে
শেখায়। কিউপিডের প্রেম তীর আমাদের প্রেমী করে তোলে। প্রদীপের হলুদসোনা রঙে
আমরা নিজেকে সঁপে দেই প্রেমের কাছে। তারুণ্যের সেই সব দিন-রাত্রীতে নিঃ
সঙ্গের কালো রঙের সাথে আমরা সখ্যতা গড়ে তুলি অজানা বোকামির কমলা রঙে আর
কান্নার কাঁচ রঙে আমরা পুনরায় রাঙ্গিয়ে নেই নিজেকে।
রঙের দুর্বার আন্দোলন আসে মধ্য বয়সে। মধ্য গগনের সুর্যের মতো কখনো তেজী, কখনো আবেগী। কাজের চাপে তখন বেগুনি রঙে কখনোবা ছেঁয়ে যাই আমরা। দাম্পত্য কলহের খয়েরী রঙে আমরা শাপ-শাপান্ত করি নিজেকে ও অন্যকে। এভাবেই ক্যালেন্ডারের রঙ পাল্টায় অনেক নাম না জানা রঙে দিনমান ঘটমান ঘটে চলে ভবিষ্যত। আমরা ভাসি এবং ডুবি বাদামী রঙে।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন