“মেমসাহেব”
লিখেছেন : নিমাই ভট্টচার্য
প্রথম প্রকাশ : শ্রাবণ ১৩৭৩ বাংলা।
প্রকাশনায় : দে’জ পাবলিশিং / কলিকাতা ৭০০০৭৩।
বইটির মূল্য:৭০টাকা মাত্র।
বইটির ধরনঃ দুর্দান্ত একটি প্রেমের উপন্যাস।
মেম সাহেব বইটির কিছু অংশ এখানে দেয়া হলোঃ
বইটির শুরুতেই আছে এই একটা দারুন কবিতার লাইন.........
“ যারা কাছে আছে তারা কাছে থাক,
তারা তো পারেনা জানিতে।
তাহাদের চেয়ে তুমি কাছে আছ,
আমার হৃদয় খানিতে। ”
বইটির ১২ তম পৃষ্টায় লেখা আছে,
সেদিন কি তিথি, কি নক্ষত্র , কি লগ্ন ছিল তা আমি জানিনা। জীবন-নদীতে এত দীর্ঘদিন উজান বাইবার পর বেশ বুঝতে পারছি যে সেদিন বিশেষ শুভলগ্নে আমি পৃথিবীর প্রথম আলো দেখি নি। এই পৃথিবীর বিরাট ষ্টেজে বিচিত্র পরিবেশে অভিনয় করার জন্য আমার প্রবেশের কিছুকালের মধ্যেই মাতৃদেবী প্রস্থান করলেন। একমাত্র দিদিও আমার জীবননাট্যের প্রথম অঙ্কেই জামাইবাবুর হাত ধরে শ্বশুরবাড়ি কেটে পড়ল। আমার জীবনে সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে আমি নারী - ভূমিকা - বর্জিত নাটকে অভিনয় শুরু করেছি....
বইটির ১৩৭-১৩৮ তম পৃষ্টায় লেখা আছে,
কেন,কেন এমন হলো বলতে পারো ? কে চেয়েছিল জীবনের প্রতিষ্ঠা ,অর্থ-যশে-প্রতিপত্তি.........
ঐ পোড়ামুখী হতভাগী মেয়েটা আমার জীবনে এলে কি পৃথিবীর চলা থেমে যেত? চন্দ্র-সূর্য ওঠা বন্ধ হতো?
মাঝে মাঝে মনে হয় কালাপাহাড়ের মত ভগবানের সংসারে আগুন জ্বালিয়ে দিই। মনে হয় মন্দির-মসজিদ-গীর্জাগুলো ভেঙে দিই! আমাদের মতো অসহায় মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার ভগবানকে কে দিল? মায়ের কোল থেকে একমাত্র সন্তানকে কেড়ে নেবার অধিকার কে দিয়েছে ভগবানকে? ........।
১৪২ তম পৃষ্টায়
ভগবানের ব্যাংকে আমার অদৃষ্টের যে পরিমান আনন্দ জমা ছিলো আমি বোধহয় তার চাইতে অনেক অনেক বেশি আনন্দের চেক কেটেছিলাম । তাই বোধহয় এখন সারাজীবন ধরে চোখের জলের ইনস্টলমেন্টে দিয়ে সে দেনা শোধ করতে হবে।
***বইটি আশা করি আপনাদের সবার ভালো লাগবে***
চিতা বহ্নিমান
লিখেছেন : ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
দি স্কাই এর প্রথম সংস্করণ মে-২০০০ইং(বাংলাদেশ)
বইটির মূল্য : ৫৫ টাকা মাত্র।
বইটির ধরন : দাম্পত্য জীবনের অসাধারণ প্রেমের কাহিনী।
**কলকাতা ও বাংলাদেশে বইটির অনেক সংস্করণ রয়েছে**
বইটি নারী কেন্দ্রিক হলেও এখানে পুরুষের চরিত্রের একটি জটিল ও কঠিন রুপ আছে।
বইটি সাধু ভাষায় লেখা হলেও আপনাদের ভালো লাগবে কেননা এখানে শিক্ষনীয় অনেক কিছু আছে।
চিতা বহ্নিমান্ বইটির কিছু অংশ এখানে দেয়া হলো ঃ
বইটির ৯ম পৃষ্টায় লেখা আছে ,
যে আমাকে কুৎসিত দেখে ভালোবাসলো না সে আমায় সুন্দর দেখে ভালোবাসতে পারে না। যে আমায় মুর্খ ভেবে গ্রহণ করলো না, আমাকে পান্ডিত্য দেখে গ্রহন করবার অধিকার তাহার নেই।
বইটির ৫৯তম পৃষ্টায় লেখা আছে ,
তপতীর সঙ্গে সঙ্গে মনে হইলো কাটার যে জাল সে এতকাল ধরিয়া নিজের চারদিকে বপন করিয়াছে তাহা হইতে মুক্তি পাইতে হইলে একটু আধটু তো ছিড়িয়া যাইবেই।
***
নারী চরিত্র যে, কি হতে পারে তা বুঝবেন ! নারী চরিত্র গুলো বইটিতে দারুন সাবলীল ভাষায় বর্ননা করা হয়েছে। বইটি পড়ে লেখিকা কে একটা ধন্যবাদ জানাতে আপনার ইচ্ছে করবে। নারী বিরহ যে কি কঠিন হতে পারে তা বুঝবেন । আমি অনুরোধ করছি মেয়েদের কে আপনার যারা এখনও বইটি পড়েননি প্লিজ পড়ে ফেলুন।
একটা কঠিন সংকল্প ,একটা কঠিন ভালোবাসা , একাল সেকাল সব মিলিয়ে অসাধারণ একটি বই।
***
গোধূলিয়া
লিখেছেন : নিমাই ভট্টাচার্য
প্রথম প্রকাশ : ডিসেম্বর ১৯৭৬ ইং
প্রকাশনায় : দে’জ পাবলিশিং কলকাতা ৭০০০৭৩।
মূল্য : ৮০ টাকা মাত্র।
বইটির ধরন : একাটি অন্যরকম প্রেমের কাহিনী।
গোধূলিয়া বইটির কিছু অংশ এখানে দেয়া হলোঃ
বইটির ২৫তম পাতায় আছে ,
একবার চোখ তুলে ওর হাসিমুখ দেখে মুখ বুজে ওর পিছনে পিছনে চললাম। সরু গলি । পূণ্য লেভাতুর বিধবার দল আমাকে এড়িয়ে চললেও মিনিটে মিনিটে ষাঁড়ের ধাক্কা সামলাতে সামলাতে হিমসিম খাচ্ছিলাম । হাজার হোক কলকাতার ছেলে। মানুষের ভিড়ে হাটাচলা করার অভ্যাস থাকলেও গায়ের উপর ষাঁড় এসে পড়লে ভয় না করে পারি না ........
দেবযানী হয়তো বুঝতে পেরেছিলো ।
তাই তো বললো , আপনাদের ত অভ্যাস নেই তাই ষাঁড় দেখতে অস্বস্তি হয় । দু-চারবার কাশী এলেই আর অস্বস্তিবোধ করবেন না।
আমি শুধু বললাম, বোধহয়।
দেবযানী, একটু হাসতে হাসতে বললো, এখানে কথায় আছে-
রাঁড়,ষাঁড়,সিঁড়ি,সন্ন্যাসী
চার বাঁচিয়ে বাস কর কাশী।
আমি হাসতে হাসতে বললাম,দেখছি এখানে সবকিছু ব্যাপারে হয় একটা সংস্কৃত শ্লোক,না হয় একটা ছড়া শুনতেই হবে। আসল কথা,ভাগ্যবানের কিনা হয়,অভাগার কিনা ভয়।
বইটির ৪৬তম পাতায় আছে,
.......যে কোন মেয়ের জীবনেই প্রথম পুরুষ হচ্ছে বাবা। এরপর আরো অনেক পুরুষেরা তার জীবনে আসে ভীড় করে । আমার জীবনের সেই পুরুষই আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে আমার মা মারা যাবার পর আমাকে অদৃষ্টের খেয়াঘাটে ফেলে তিনি তার জৈবিক চাহিদা মেটাবার জন্য অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে এক যজমান কন্যাকে নিয়ে নতুন সংসার পাতলেন। তাই তো শৈশব থেকেই পুরুষ মানুষ সম্পর্কে আমার বিতৃষ্ণা,ঘেন্নাও বলতে পারেন।
বইটি’র কিছু বাক্যঃ-
* “পুরুষরা মন থেকে যত তাড়াতড়ি সবকিছু মুছে ফেলতে পারে মেয়েরা তা পারে না।”
* “মন যুক্তি বোঝে হৃদয় তো বুঝে না ”
বইটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলোঃ
বইটি পড়লে আপনার এক ঘেয়েমি লাগবে না পড়তে পড়তে কখন যে আপনার সময় কেটে যাবে টের পাবেন না।
মাঝে মাঝে আপনার মনে হবে আসলে ভালবাসা কেন এমন হয়..........?
একজন বিধবা’র প্রেম আর সামাজিক চাপ সব মিলিয়ে ভালো লাগার মতো একটা উপন্যাস।
জুলভার্ন ভলিউম-১
আশিদিনে বিশ্ব ভ্রমণ (সেবা প্রকাশনী থেকে ১ম প্রকাশঃ ১৯৭৯ )
নাইজারের বাকে (সেবা প্রকাশনী থেকে ১ম প্রকাশঃ ১৯৮২ )
মরুশহর (সেবা প্রকাশনী থেকে ১ম প্রকাশঃ ১৯৮২ )
-------------------------------------------------------------------------
বইগুলোর লেখকঃ জুলভার্ন
বইয়ের ধরন কল্পবিজ্ঞানের কাহিনী
তিনটি বইয়ের মুল্যঃ একসাথে ৪০টাকা মাত্র
সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত
অনুবাদঃ শামসুদ্দিন নওয়াব
আশিদিনে বিশ্ব ভ্রমণ
আশি দিনে বিশ্ব ভ্রমণ বইটিতে দারুন ভাবে বর্ণণা করা হয়েছে বিশ্ব ভ্রমনের কথা ,সবচেয়ে মজার বিষয় হলো ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে লেখা এই বইয়ে তৎকালীন ভারতবর্ষের কথা উল্লেখ্য করেছেন। আরো চমকপ্রদ বিষয় হলো লেখক কখনই ভারতবর্ষ ভ্রমণ করেননি তবুও তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন সাবলীল ভাবে।
*ফিলিয়ান ফগ কে দিয়ে তিনি বিয়ে করিয়েছেন ভারতীয় বিধবা নারী আউদাকে।
নাইজারের বাকে
আফ্রিকা অভিযানের এক লোমহর্ষক বর্ণনা করা হয়েছে এই বইয়ে বইটি একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে উঠা মুস্কিল। সবচেয়ে আশ্চর্য কথা হলো লেখক এতো র্নিভূল ভাবে লিখেছেন যে মনে হবে আপনিও বুঝি চলেছেন তাদের সাথে। সেই সাথে জানতে পারবেন তখনকার সময়ে নিগ্রোরা কিরকম ছিলো।
মরুশহর
মরুশহর বইটি নাইজারের বাকে বইটির পরবর্তী অংশ, এই বইটিতে আপনি পাবেন সাহারা মরুভূমি কে নিয়ে লেখা দারুন থ্রিলার এ্যাকশন এক কাহিনী আর তাছাড়া এখানে যে চরিত্র গুলো আপনি পাবেন তাদের যে কোন একটা চরিত্রে নিজেকে ভাবলে আপনার দারুন মজা লাগবে। বইটি লেখার সময় কালে টেলিগ্রাফের কথা উল্লেখ্য করা আছে কিন্তু তখন পর্যন্ত টেলিগ্রাফ আবিস্কার হয়নি।
** জুলভার্নের লেখা বই গুলো আসলেই দারুন মজার আশা করি আপনাদের ভালোলাগবে**
পরিশেষে:
* যারা উপরে উল্লেখিত বই গুলো পড়েছেন তারা তাদের অনুভূতি গুলো ব্যাক্ত করুন।
** যারা এই বই গুলো পড়েন নি তাদের কে অনুরোধ জানালাম সময় পেলে একবার পড়ে নিবেন।
হয়তো বই পরিচিতি দিয়ে গিয়ে আমার লেখার বিন্যাসে কোথাও কোথাও ভূল হয়েছে তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার এ লেখাটি যদি আপনাদের কাজে লাগে তাতেই আমার সন্তুষ্টি.....................
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন